গৃহকর্মীদের শ্রমিক স্বীকৃতি, সাপ্তাহিক ছুটি, ন্যূনতম মজুরি ঘোষণাসহ ১১ দফা দাবিতে বুধবার (২২ মে) প্রেসক্লাবের সামনে গৃহকর্মী অধিকার রক্ষা কমিটির উদ্যোগে এক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে শ্রম এবং নারী ও শিশু কল্যাণ উপদেষ্টা বরাবর গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, সাপ্তাহিক ছুটি, ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা সহ মোট ১১ দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গৃহকর্মী অধিকার রক্ষা কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আসমা আক্তার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তৌফিকা লিজা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন দপ্তর সম্পাদক রাহেলা খাতুন, সদস্য সাহিদা আক্তার, চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুয়ারা বেগম, সদস্য জমিরন খাতুনসহ বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিবৃন্দ।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ নারী, শিশু ও কিশোরী গৃহকর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। অথচ তারা এখনও শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। গৃহকর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রান্না, ঘর পরিষ্কার, শিশু ও রোগীর সেবা, কাপড় ধোয়া, প্রসূতির পরিচর্যা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করলেও তাদের শ্রমের কোন প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন নেই।
সমাবেশে উঠে আসে গৃহকর্মীদের উপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্রও। কল্পনা, প্রীতি উড়াং কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে খিলগাঁওয়ের এক কিশোরী গৃহকর্মীর ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, এ ধরনের সহিংসতা বেড়েই চলেছে এবং বিচারপ্রাপ্তির হার অত্যন্ত হতাশাজনক। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, গত ৩ বছরে ৩৬ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, যার ৯০ শতাংশই প্রমাণিত নির্যাতনজনিত।
বক্তারা বলেন, আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা-২০১৫ বাস্তবায়নও সময়ের দাবি।
গৃহকর্মী অধিকার রক্ষা কমিটির ১১ দফা:
১. গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান
২. সরকারিভাবে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও মাসিক ৫ তারিখের মধ্যে মজুরি প্রদান
৩. নিয়োগ চুক্তিপত্র বাধ্যতামূলক করা
৪. সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি নিশ্চিত করা
৫. যৌন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দ্রুত আইনগত প্রতিকার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
৬. বিনামূল্যে চিকিৎসা ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে গৃহকর্তার দায়বদ্ধতা
৭. গর্ভকালীন ১৬ সপ্তাহের বেতনসহ ছুটি
৮. নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা
৯. স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা
১০. রেশনিং সুবিধা প্রদান
১১. সার্বজনীন পেনশন বা এককালীন সরকারি আর্থিক সহায়তা
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন করে গৃহকর্মীদের মানবিক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আন্দোলনের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
