নিজস্ব প্রতিবেদক: “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংগ্রামী নারী: অশ্রুর শক্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়” শিরোনামে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা। শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত ও সংগ্রামী নারী-পুরুষসহ সব অংশগ্রহণকারীর আত্মত্যাগ, সাহস ও অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাষ্ট্র ও সমাজকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ; সাবেক উপদেষ্টা ও নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সভাপতি ফরিদা আখতার; ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ; শহীদ আনাসের মা সানজিদা খান; শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান; শহীদ সৈকতের বোন সেবন্তি; শহীদ মো. সোহেলের মা রহিমা বেগম; শহীদ রিদয়ের বড় ভাই ইব্রাহিম এবং গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন, যেখানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বৈষম্য, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিলেন। এই আন্দোলনে অনেকে জীবন উৎসর্গ করেছেন, অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন এবং নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও অবদান যথাযথভাবে নথিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শহীদদের পরিচয়, তাঁদের জীবনের গল্প এবং আন্দোলনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের ওপর জোর দেন বক্তারা।
তাঁরা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সংগ্রামী নারীদের ভূমিকা এই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আন্দোলনে নারীরা রাজপথে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংগঠন, সমন্বয়, আহতদের সহায়তা, তথ্য আদান-প্রদান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আন্দোলন এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের সাহস, নেতৃত্ব, আত্মত্যাগ এবং নেপথ্যের অবদানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করার পাশাপাশি তাঁদের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও সংগ্রামের ইতিহাস গবেষণা, প্রকাশনা, মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রামাণ্য দলিল তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা গড়ে ওঠে সাধারণ মানুষের ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণে ব্যক্তি, পরিবার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মত দেন তাঁরা।
নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সভাপতি ফরিদা আখতার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, বিশেষ করে শহীদ ও সংগ্রামী নারী-পুরুষের আত্মত্যাগ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে তা আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী, শহীদ পরিবারের সদস্য, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
