নিজস্ব প্রতিবেদক: তামাক নিয়ন্ত্রণে নীতি-অ্যাডভোকেসি আরও জোরদার করা এবং আইন শক্তিশালীকরণে বিধি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাবিনাজ (তামাকবিরোধী নারী জোট) সদস্যদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী আবাসিক কর্মশালা আয়োজন করেছে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি-নির্ধারণী গবেষণা)।
১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে অবস্থিত ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় দেশের ৮টি বিভাগ—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে তাবিনাজের ২৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় তামাক নিয়ন্ত্রণের বর্তমান আইন ও আইনের আলোকে দ্রুত বিধি প্রণয়ন, তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপ, উদীয়মান তামাক ও নিকোটিন পণ্য এবং ভবিষ্যৎ অ্যাডভোকেসি কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ এবং উদীয়মান তামাকপণ্য নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা। একই সঙ্গে বর্তমান অর্থবছরের বাজেটে তাবিনাজ সদস্যরা সারাদেশব্যাপী ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি)-এর বিস্তৃত ব্যবহারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দলগত অনুশীলনে অংশ নেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আলোকে বিধি প্রণয়নে কীভাবে কার্যকর অবদান রাখা যায়, সে বিষয়ে দলগত কৌশল প্রণয়নবিষয়ক আলোচনাও হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে কর্মশালার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু। সমাপনী সেশনের সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা (৩০৩ মহিলা আসন-০৩) এবং মোছাঃ সাবিরা সুলতানা (৩১৪ মহিলা আসন-১৪)। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডান প্রোগ্রামসের রিজিওনাল ডিরেক্টর ডা. মাহিন মালিক এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
