নিজস্ব প্রতিবেদক: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় দেশজুড়ে নিজেদের সব কার্যালয় প্রাঙ্গণ শতভাগ তামাকমুক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এই উদ্যোগ দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিবিএসের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উবিনীগের (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) কারিগরি সহায়তায় বিবিএস এই সভার আয়োজন করে।
মহাপরিচালক বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য শরীরের জন্য ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকারে আসে না। অসংক্রামক রোগের অন্যতম বড় কারণ তামাকজাত দ্রব্য, তাই সবারই উচিত এসব থেকে নিজেদের বিরত রাখা।
সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে উঠে আসে তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর দিক, এর কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব, দেশে তামাক ব্যবহারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ অগ্রাধিকারের বিষয়টি।
প্রবন্ধে জানানো হয়, তামাক ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ মারা যান। দেশের প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, অর্থাৎ ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ, তামাক ব্যবহার করেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শুধু কর্মক্ষেত্রেই ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন। তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণও অনেক বড়—২০২৪ সালে এই ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, অথচ এর বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল মাত্র ৪১ হাজার কোটি টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ধূমপান ও তামাকমুক্ত প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করা হলে তা একটি সুস্থ, নিরাপদ ও জনবান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এর ফলে বিবিএসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেমন একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাবেন, তেমনি প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষও ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।
বক্তারা বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর হারও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তাঁরা। এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে যে, পরিসংখ্যান ব্যুরো শুধু তথ্য নিয়েই কাজ করে না, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিবিএসের উপমহাপরিচালক মো. ওবায়দুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উইংয়ের পরিচালক, উপপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
—জা.অর্থনীতি/আরএস
