Home Seacond Lead ওয়াটারএইডের আঞ্চলিক পরিচালক ডা. খায়রুল ইসলামের মৃত্যুতে স্বাস্থ্য আন্দোলনের শোক

ওয়াটারএইডের আঞ্চলিক পরিচালক ডা. খায়রুল ইসলামের মৃত্যুতে স্বাস্থ্য আন্দোলনের শোক

by raazu
০ comments

অনলাইন ডেস্ক: জনস্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও লেখক এবং ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ডা. মো. খায়রুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার ভোরে রাজধানীর কন্টিনেন্টাল (সাবেক ইউনাইটেড) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কমিউনিকেশনস কো-অর্ডিনেটর প্লাবন গঙ্গোপাধ্যায়ের বরাত দিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে আনার পর ভোর ৬টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর মরদেহ বারডেমের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। তাঁর একমাত্র ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন।

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ডা. খায়রুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য আন্দোলন। এক শোকবার্তায় সংগঠনটি বলেছে, জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ডা. খায়রুল ইসলামের অবদান ছিল অনন্য। গবেষণা, লেখালেখি ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতের নানা সংকট, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন। তাঁর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও জনস্বাস্থ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সকলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, তাঁর মৃত্যু দেশের জনস্বাস্থ্য অঙ্গন এবং স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কর্ম ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যকর্মী, গবেষক ও অধিকারকর্মীদের পথ দেখাবে।

মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে স্বাস্থ্য আন্দোলন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ডা. খায়রুল ইসলাম। প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি, নেতৃত্ব, মানবিকতা ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তিনি এ খাতের একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কয়েক দশক ধরে দেশের পানি ও স্যানিটেশন খাতের উন্নয়নে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।

চলতি আগস্ট মাসেই ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর পদ থেকে তার অবসর নেওয়ার কথা ছিল।

ডা. মো. খায়রুল ইসলাম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে নিপসম ও যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তিনি নিয়মিত গবেষণা ও লেখালেখি করতেন। দেশে ও বিদেশে তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিকাশ’ বইয়ের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ও প্রদায়ক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণেও ডা. খায়রুল ইসলামের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর গবেষণা করে তারা যৌথভাবে রচনা করেন ‘মুক্তিযুদ্ধের চিকিৎসা ইতিহাস’ বইটি। ২০২২ সালে বইটি প্রকাশিত হয়।

ডা. খায়রুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান। তিনি বলেন, ডা. খায়রুলের প্রয়াণ বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও ওয়াশ খাতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি শুধু সহকর্মী বা নেতা ছিলেন না, অসংখ্য মানুষের কাছে একজন মেন্টর ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। তার জ্ঞান, বিনয়, মানবিকতা ও নেতৃত্ব থেকে বহু মানুষ শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

—জা.অর্থনীতি/আরএস

You may also like

Leave a Comment

যোগাযোগ

বার্তাপ্রেস একটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম। সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বার্তাপ্রেস পড়ুন, বার্তাপ্রেসে লিখুন। বার্তাপ্রেসের সঙ্গেই থাকুন।

ঠিকানা

© ২০২৫ | বার্তাপ্রেস কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত |