এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, শতভাগ উৎসব ভাতা, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে শিক্ষক-কর্মচারীদের পদযাত্রা পুলিশের বাধার মুখে আটকে গেছে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা সচিবালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয় এবং উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে একপর্যায়ে পুলিশ শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ করে।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করেছিল, পরে প্রতিবাদের মুখে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। একজন আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি একই দাবিতে শিক্ষকরা শিক্ষা ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করলে পুলিশ বাধা দেয়। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় শিক্ষকরা পুনরায় আন্দোলনে নামেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
আন্দোলনকারীদের একজন জানিয়েছেন, আমাদের কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উসকানিতে ফ্যাসিবাদি কায়দায় আক্রমণ করে শিক্ষকদের পিটিয়েছে। আমিসহ ৩ জনকে আটক করেছিলো। পরে শিক্ষকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ছেড়ে দিয়েছে। একজন শিক্ষককে হাসপাতালে নিতে হয়েছে।
শিক্ষকরা বলেছেন, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, মেডিক্যাল ভাতা, শতভাগ উৎসব ভাতা ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। প্রজ্ঞাপন ছাড়া ঘরে ফিরবেন না তারা।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট ঘোষিত এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষকরা অবস্থান নিয়েছেন।
সংগঠনের সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন আজীজী বলেন, আমরা আশ্বাসে বিশ্বাসী না, আন্দোলনস্থলে এসে ঘোষণা দিতে হবে, আমাদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। অন্যথায় শিক্ষকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।
সংগঠনটির যুগ্ম সদস্য সচিব আবুল বাসার বলেন, মার্চ টু যমুনা কর্মসূচিতে পুলিশের বাধার প্রতিবাদে জাতীয়করণ শিক্ষকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক সমাবেশ করা হবে, সেই সমাবেশে শিক্ষকরা তাদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন এবং দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন এবং কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষকরা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া প্রেস ক্লাব ছেড়ে যাবেন না তারা। সরকারকে দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সব এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীকে প্রেসক্লাবের কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান তারা।
