দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর ক্যামেরার সামনে এসে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। পরিবার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পৃথিবীর সব মা-ই মা না। খারাপ মা-ও আছে। দুর্ভাগ্যবশত আমার মা হয়তো আমাকে সেই পরিমাণ ভালোবাসতে পারেনি। আমার পরিবারের কাছে সবসময় সোনার ডিম পাড়া হাঁস ছিলাম, দুধ দেওয়া গরু ছিলাম, টাকা ছাপানোর মেশিন ছিলাম। সন্তান হিসেবে কখনোই ভালোবাসা পাইনি। তারপরও কোনো অভিযোগ নেই, এখনও নেই।”
পপি আরও বলেন, “আমি যখন ইনকাম করতাম, দু’হাতে পরিবারের জন্য খরচ করতাম। তখন খুব প্রিয় ছিলাম। কিন্তু এখন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দিতে পারি না, তাই তাদের কাছে আমি গলার কাঁটা, শত্রু এবং অপছন্দের মানুষ।”
সম্প্রতি পপির বোন ফিরোজা পারভীন থানায় তার নামে জিডি করেছেন, অভিযোগ করেছেন বাবার জমি একা নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করছেন পপি। এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়ে পপি বলেন, “আমি দীর্ঘ ২৮ বছর চলচ্চিত্রে কাজ করেছি, মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। কিন্তু যাদের জন্য কাজ করেছি, সেই পরিবারের কাছেই আমি অযোগ্য। তাদের মন মতো চলতে পারিনি বলে তারা এখন আমাকে অপমান করছে।”
পরিবারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করে পপি বলেন, “আমার আয় করা সব টাকা তারা নিয়েছে। আমার নামে কোনো সম্পত্তি ছিল না। ব্যাংক অ্যাকাউন্টও শূন্য ছিল। এমনকি আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে, আমার টাকা চুরি করেছে, খুন করার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়েছে। এই কাজে আমার আপন মা, ভাই-বোন জড়িত ছিল।”
পপি জানান, তিনি সবকিছু জানার পরও দীর্ঘদিন চুপ ছিলেন। “একটা সময় বুঝলাম, শুধু মেশিন হিসেবে আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে। বাবা-মা পর্যন্ত আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ হিসেবে নয়, আমাকে শুধু টাকা আনার যন্ত্র হিসেবে দেখেছে তারা। যাদের জন্য নিজের জীবন ত্যাগ করেছি, সেই ভাই-বোনদের মানুষ করতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছি। কিন্তু আজ তারা আমাকে হিংস্র পশুর মতো ব্যবহার করছে।”
অভিনেত্রী পপি সবশেষে ২০২২ সালে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিপুণ আক্তারকে সমর্থন দিয়ে ভিডিও বার্তায় দেখা দিয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি পুরোপুরি আড়ালে ছিলেন। তবে এবার তিনি মুখ খুললেন নিজের পরিবার ও জীবনের নানা কঠিন বাস্তবতা নিয়ে।
