জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ধারাবাহিক ঘটনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ বাংলাদেশে গণবিক্ষোভের পুনরুত্থানে ভূমিকা রেখেছিল, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের কারণ হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে বিলম্বিত আদালতের রায় ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য আন্দোলনকারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ১৮ জুলাই থেকে বিক্ষোভকারীদের দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ শুরু করলে জনসাধারণের ক্ষোভ আরও বাড়ে।
২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট কোটা সংস্কারের রায় ঘোষণা করলেও ততক্ষণে আন্দোলনকারীরা সরকারবিরোধী আরও বড় দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে। ২৬ জুলাই বিএনপি জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়, যা বিক্ষোভ আরও বেগবান করে।
অগাস্টের শুরুতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করলেও সেনাবাহিনীর মধ্যে ভিন্নমত দেখা দেয়। ৫ আগস্ট ঢাকায় বিশাল গণমিছিলের সামনে সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকায় বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হয়। দুপুর ২টার দিকে শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে দেশত্যাগ করেন।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গণআন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হয়।
