Home Seacond Lead আনন্দাশ্রুতে ভিজল ব্যাংকক বিমানবন্দর, গাজা থেকে মুক্ত থাই জিম্মিরা দেশে ফিরলেন

আনন্দাশ্রুতে ভিজল ব্যাংকক বিমানবন্দর, গাজা থেকে মুক্ত থাই জিম্মিরা দেশে ফিরলেন

by raazu
০ comments

গাজায় হামাসের হাতে প্রায় ৫০০ দিন বন্দি থাকার পর মুক্তি পাওয়া পাঁচ থাই কৃষিশ্রমিক আজ সকালে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাদের স্বজনদের চোখে আনন্দাশ্রু ঝরে।

পোংসাক থেন্না, সাতিয়ান সুয়ান্নাখাম, ওয়াচারা স্রিয়াউন, বন্নাওয়াত সেতাও এবং সুরাসাক লামনাও—এই পাঁচজন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় দক্ষিণ ইসরায়েলে কাজ করছিলেন, সেখান থেকেই তাদের অপহরণ করা হয়।

রবিবার সকালে পরিবারের সদস্যদের আলিঙ্গনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মুক্তিপ্রাপ্তরা। পোংসাক থেন্না বলেন, “আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমাদের মুক্ত করতে যেসব কর্মকর্তা সহায়তা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের সহায়তা ছাড়া আমরা আজ এখানে দাঁড়াতে পারতাম না। আমাদের দেশে ফিরে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ।”

থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস সঙ্গিয়ামপংসা বলেন, “তাদের ফিরে আসা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।” তিনি জানান, ৩০ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়ার পর তারা ইসরায়েলের একটি হাসপাতালে ১০ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বন্নাওয়াত সেতাওয়ের বাবা সোমবুন সেতাও বলেন, “আমি খুবই খুশি। আমার ছেলের জন্য ঐতিহ্যবাহী থাই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো। আমি আর চাই না সে কখনও বাড়ি থেকে দূরে যাক।”

বন্নাওয়াত অপহরণের নয় মাস আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য ইসরায়েলে গিয়েছিলেন বলে জানান তার বাবা।

তার স্ত্রী উইয়াদা সেতাও বলেন, “গত ১৫ মাস আমাদের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। তবে এখন আর ভয় নেই, আমরা ঘরে ফিরেছি, আমরা থাইল্যান্ডে আছি।”

সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ:
থাইল্যান্ডের শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বুনসোং তাপচাইয়ুত জানিয়েছেন, প্রত্যেক মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মিকে এককালীন ৬ লাখ থাই বাত (প্রায় £১৪,৫১০) এবং মাসিক £৭২৫ করে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হবে, যাতে তারা আর ইসরায়েলে ফিরে না যেতে হয়।

এখনও এক থাই নাগরিক গাজায় নিখোঁজ রয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ছয় নম্বর থাই জিম্মিকে উদ্ধারে আমরা কোনো প্রচেষ্টা বাদ দিচ্ছি না। আমাদের এখনো আশা আছে, আমরা শেষ পর্যন্ত সফল হবো।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সহায়তা:
থাই প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রা বলেন, “তাদের মুক্তির খবর পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।” তিনি ইসরায়েল, কাতার, মিসর, ইরান, তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।

সংঘাতের পটভূমি:
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয় এবং প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয়। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় ৪৬ জন থাই কর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কিছু লেবাননের হিজবুল্লাহ গ্রুপের রকেট হামলায় প্রাণ হারান।

ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় গাজায় অন্তত ৪৭,৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার দুই-তৃতীয়াংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

বন্দিমুক্তি চুক্তির প্রসঙ্গ:
থাই জিম্মিদের মুক্তি ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে ১৯ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত অস্ত্রবিরতি চুক্তির অংশ নয়। ওই চুক্তির আওতায় ২১ জন ইসরায়েলি জিম্মি এবং ৫৬৬ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন।

তিন সপ্তাহের মধ্যে এই চুক্তির প্রথম পর্যায় শেষ হলে আরও ৩৩ জন জিম্মি এবং ১,৯০০ বন্দি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, এই ৩৩ জনের মধ্যে ৮ জন ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন।

You may also like

Leave a Comment

বার্তাপ্রেস একটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম। সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বার্তাপ্রেস পড়ুন, বার্তাপ্রেসে লিখুন। বার্তাপ্রেসের সঙ্গেই থাকুন।

ঠিকানা

© ২০২৫ | বার্তাপ্রেস কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | উন্নয়নে ডেভেলপার বোরহান