Home Lead News ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে ডিসেম্বরের মধ্যে’

‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে ডিসেম্বরের মধ্যে’

by raazu
০ comments

পানিসম্পদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, নদীপাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা হবে।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রেলসেতু এলাকায় ‘তিস্তা নিয়ে করণীয়’ শীর্ষক গণশুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “তিস্তা কোনো দেশের একক নদী নয়। কেউ যদি মনে করে তিস্তা কারো একক নদী, তবে তা হবে বড় ধরনের ভুল। আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ যদি হয়, তবে বর্ষায় পানি ছাড়ার আগে আমাদের জানানো উচিত।”

তিনি জানান, এ অঞ্চলের ৪৫ কিলোমিটার নদীভাঙন এলাকায় ২২ কিলোমিটার সবচেয়ে বেশি ভাঙনপ্রবণ। “আগামী মার্চের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করে নদীভাঙন রোধে কাজ শুরু করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি,” যোগ করেন তিনি।

অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আপনাদের অনেক প্রত্যাশা। আমাদের কাছে তেমন অর্থ না থাকলেও নদীর পাড়ের মানুষের দুঃখ দূর করতে তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছি।”

গণশুনানিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “বিগত সরকার প্রধান বলেছেন, আমরা যা ভারতকে দিয়েছি, ভারত তা চিরকাল মনে রাখবে। কিন্তু ভারত এদেশের জন্য কোনো স্মরণীয় অবদান রাখেনি। আমরা ভারতকে কূটনৈতিক চাপ দিয়ে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায় করব, যাতে তিস্তা এ এলাকার মানুষের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়।”

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পররাষ্ট্রনীতিতে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়িয়েছে। তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে মাথা উঁচু করে কথা বলবে বাংলাদেশ।”

তিনি জানান, “আন্তর্জাতিক পানি আইনের ভিত্তিতে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে, যাতে ভারত তিস্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য একটি খসড়া নিয়ে ঘুরছে। তবে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ভারতকে শুধু ছবি তোলার সুযোগ দিয়েছে, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি বলেন, “তিস্তার চরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হবে। কৃষকেরা যাতে ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সেজন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হবে। তিস্তা নদীতে আরও একটি সেতু নির্মাণ এবং উত্তরাঞ্চলে কৃষি শিল্পের বিপ্লব ঘটানো হবে।”

গণশুনানি অনুষ্ঠানে রংপুর জেলা প্রশাসক মো. রবিউল ফয়সাল সভাপতিত্ব করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব একেএম তারিকুল আলম, কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক একেএম মমিনুল হক, কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিদুল হকসহ অনেকে।

উল্লেখ্য, রংপুরের পাঁচ জেলার ১২ উপজেলার ৪৪ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত হয়েছে। এ নদীর সাথে আরও ২২টি নদী যুক্ত, যা এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ১১৫ কিলোমিটার নদীর গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ, ভাঙন প্রতিরোধ, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদী খনন, নদী প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং সেচের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হোক।

You may also like

Leave a Comment

বার্তাপ্রেস একটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম। সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বার্তাপ্রেস পড়ুন, বার্তাপ্রেসে লিখুন। বার্তাপ্রেসের সঙ্গেই থাকুন।

ঠিকানা

© ২০২৫ | বার্তাপ্রেস কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | উন্নয়নে ডেভেলপার বোরহান