পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে পরিচালিত একটি জবাবদিহি আদালত আল-কাদির ইউনিভার্সিটি প্রজেক্ট ট্রাস্ট মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে এ রায় ঘোষণা করেন।
ইমরান খানকে আরও ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে। এটি ইমরান খানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চতুর্থ বড় মামলা যেখানে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
মামলার পটভূমি
আল-কাদির ইউনিভার্সিটি প্রজেক্ট ট্রাস্টের মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইমরান খান ও তার স্ত্রী অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু মামলা রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশেই তিনি জামিন পাননি।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে নতুন ৭টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। গত ২ ডিসেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে হাজির করার সময় এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেয় আদালত।
বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ
গত ২৪ নভেম্বর, ইমরান খানের ‘শেষ ডাক’-এর প্রেক্ষিতে ইসলামাবাদে বিক্ষোভ শুরু করে তার সমর্থকরা। তবে, ২৭ নভেম্বর রেড জোনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর দলটির শীর্ষ নেতারা পিছু হটেন। এই সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য এবং তিনজন রেঞ্জার্স কর্মকর্তা রয়েছেন।
বিক্ষোভের পরবর্তী অভিযানে পিটিআইয়ের বহু কর্মী গ্রেপ্তার হন এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা
পিটিআই নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, পুলিশ সদস্যদের আক্রমণ, এবং সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভে ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ইমরান খান, বুশরা বিবি, সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি, জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার আসাদ কায়সারসহ মোট ৯৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচারক তাহির আব্বাস সিপরা তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ডে স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং জনগণ তাদের বাড়িতে আটকা পড়েছেন।
ইমরান খানের ভবিষ্যৎ
ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর সংখ্যা বাড়তে থাকায় তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এই রায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
