ধানমন্ডি ৩২ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে গণতান্ত্রিক উত্তরণ, সুশাসন এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘‘দলীয়করণ ও পরিবারতন্ত্রের সীমাহীন লালসায় তাড়িত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সবচেয়ে বেশি অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন শেখ হাসিনা ও তার দোসররা। গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত পলাতক শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণায় দেশজুড়ে মানুষের ক্ষোভ বহুগুণে বেড়েছে।’’
তবে দেশজুড়ে চলমান প্রতিশোধপ্রবণ ভাঙচুর ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘আইনসিদ্ধ প্রতিক্রিয়ার পথ অনুসরণ না করে এসব সহিংস কর্মকাণ্ড নতুন বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তিতে আঘাত করবে।’’
বিবৃতিতে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘আগে থেকেই সহিংস কর্মসূচির ঘোষণা থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী আশঙ্কাজনকভাবে নির্লিপ্ত ছিল। পরে অনভিপ্রেত ঘটনা বলে বিবৃতি দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কর্তৃত্ববাদের দীর্ঘ ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত জঞ্জাল অপসারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছা স্পষ্ট। তবে এই সদিচ্ছার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি নিরসন কৌশল কতটা কার্যকর, তা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক মনে করেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি আওয়ামী কর্তৃত্ববাদের পুনরুত্থানকামী মহলকে সুযোগ করে দিতে পারে। ‘‘যদি সরকার যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তবে নতুন বাংলাদেশের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়বে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘শেখ হাসিনাসহ কর্তৃত্ববাদের দোসরদের সুনির্দিষ্ট অপরাধের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের জন্য সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাওয়া উচিত।’’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, প্রতিশোধমূলক সহিংসতা থেকে বিরত থাকা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। ভিন্নমত পোষণকারীদের মামলা দিয়ে হয়রানির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।’’
