শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে সবজির দামে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু পেঁয়াজ, মুরগি এবং চালের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালে
বাজারে শীতকালীন সবজির প্রভাবে দাম তুলনামূলক কম। প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, শিম ২৫ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, পটোল ৩০-৪০ টাকা, আর কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শালগমসহ শাক-সবজির দামও বেশ স্থিতিশীল। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পেঁয়াজের দাম বেড়েছে
খুচরা বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।
পাইকাররা জানান, দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লেও আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। চাষিরাও ন্যায্যমূল্য পেতে দাম কিছুটা বাড়িয়েছেন।
মুরগি ও চালের বাজারে চড়া দাম
বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০-২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক ধরে এই দাম অপরিবর্তিত।
চালের বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে। মিনিকেট ৮০ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬-৮২ টাকা, এবং পোলাও চাল ১১৬-১১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম বেশি থাকায় বিক্রি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
মাছের বাজারেও অস্থিরতা
ইলিশ মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। অন্যান্য মাছ, যেমন রুই, কাতল, শিং, তেলাপিয়া, এবং পাঙাশের দামও চড়া।
মাংস ও ডিমের বাজার
গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০৫০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। লাল ডিম প্রতি ডজন ১৩৫-১৪০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২৩৫-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের দাবি
বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, সঠিক তদারকির অভাবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পান। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন।
