নিজস্ব প্রতিবেদক: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের (MoFL) অধীনে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প (LDDP) এর আওতায় বাস্তবায়িত “Consulting Services for Establishment of Pre-Conditions for Bangladesh Integrated Network for Livestock Information (BINLI)” কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (DLS) কর্তৃক বাস্তবায়িত এই কর্মসূচি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৬। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ইতালির AGT International তাদের স্থানীয় অংশীদার SODEV Consult International Ltd (Bangladesh)-এর সঙ্গে যৌথভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, BINLI কর্মসূচির আওতায় LDDP প্রকল্প এলাকার ৮টি বিভাগের নির্বাচিত ১৬টি জেলার ১৬টি উপজেলার ৮ হাজার ১৫৩টি খামার এবং ৫০ হাজার ১৮টি গবাদিপ্রাণীকে একটি সমন্বিত ডাটাবেস সিস্টেমে নিবন্ধন করা হয়েছে। এই ডাটাবেসে গবাদিপশুর প্রাথমিক তথ্যের পাশাপাশি Health ও Production সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নয়নকৃত এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রায় ১০০০ কোটি গবাদিপশুর তথ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন এলাকাসহ প্রকল্পভুক্ত সব জেলা ও উপজেলাকে এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো “জাতীয় প্রাণিসম্পদ বীমা নীতিমালা ২০২৫” এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দেশে প্রাণিসম্পদ খাতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বীমা কাঠামো হতে যাচ্ছে।
সরকারের ১৮০ দিনের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল অন্তত ১৫০০টি গবাদিপ্রাণীকে বীমার আওতায় আনা। তবে BINLI কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ২ হাজার ৩২৫টি ডেইরি ক্যাটলকে বীমার আওতায় আনা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।
পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৪ হাজার ৮০০টি গবাদিপশুকে বীমা সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
