‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করায় অন্তর্বর্তী সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে তাবিনাজ (তামাকবিরোধী নারী জোট)।
দীর্ঘ এক যুগ পর ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন)’ অনুমোদনের এই সিদ্ধান্তকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে সংগঠনটি।
তাবিনাজের মতে, সংশোধিত আইনটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে তামাকজনিত অসংক্রামক রোগ এবং অকাল মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)–এর ৩ নম্বর লক্ষ্য, বিশেষ করে লক্ষ্য ৩(ক)—অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমানো—অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তামাকজনিত কারণে স্বাস্থ্যব্যয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস ও পরিবেশগত ক্ষতির ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রতিবছর যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সংগঠনটি সংশোধনীর কয়েকটি দিককে বিশেষভাবে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
সকল পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে তামাক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ।
তামাকজাত পণ্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা।
তামাকজাত পণ্যের মোড়কের উপরিভাগে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা।
নতুন ধরনের নিকোটিন পাউচকে আইনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা।
এ ছাড়া নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট এবং আধুনিক নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করায় তরুণ প্রজন্মকে তামাকের নেশা থেকে দূরে রাখতে এটি কার্যকর ঢাল হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করে তাবিনাজ।
তাবিনাজের বক্তব্যে বলা হয়, সদ্য অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ একটি তামাকমুক্ত ও সুস্থ বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সংগঠনটি সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, সিভিল সোসাইটি এবং তরুণ সমাজকে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গৃহীত এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশোধিত অধ্যাদেশটি অবিলম্বে গেজেট আকারে প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছে তাবিনাজ।
