Home Lead News শিশুশ্রম বন্ধের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ বিশ্ব

শিশুশ্রম বন্ধের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ বিশ্ব

by razu ahamed
০ comments

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ব। ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ১৩ কোটি ৮ লাখ শিশু এখনো জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন খাতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে—যেমন খনিজ খনন, কলকারখানা ও কৃষিকাজ।

গত বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ‘আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম বিরোধী দিবস’ উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। জাতিসংঘের এই দুই সংস্থার মতে, চলমান গতি বজায় থাকলে শিশুশ্রম মুক্ত বিশ্ব গড়তে আরও কয়েক দশক লেগে যাবে।

উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, তবু দীর্ঘ পথ বাকি
২০০০ সালে বিশ্বজুড়ে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ২৪ কোটি ৫৫ লাখ। এরপর ধীরে ধীরে এ সংখ্যা কমে ২০২০ সালে দাঁড়ায় ১৬ কোটিতে এবং ২০২৪ সালে আরও কমে আসে ১৩ কোটি ৮ লাখে। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমেও শিশুদের সংখ্যা কমেছে—২০০০ সালে যা ছিল ৭ কোটি ৯০ লাখ, এখন তা নেমে এসেছে ৫ কোটি ৪০ লাখে।

আফ্রিকায় অবস্থান আরও উদ্বেগজনক
সাব-সাহারা আফ্রিকার দেশগুলোতে এখনও ব্যাপকহারে শিশু শ্রম বিদ্যমান। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বের মোট শিশুশ্রমিকদের মধ্যে ৮ কোটি ৭০ লাখই এই অঞ্চলের।

ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা বিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা নানকালি মাকসুদ বলেন, “সংখ্যার দিক থেকে খুব বেশি উন্নতি হয়নি, কারণ এই অঞ্চলে জনসংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিশুশ্রমিক ৫ থেকে ১১ বছর বয়সের মধ্যে।”

তিনি আরও বলেন, “যতদিন পর্যন্ত গ্রামীণ দারিদ্র্য দূরীকরণে পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকবে, ততদিন শিশুশ্রম বন্ধ হবে না।”

মাদাগাস্কারে মিকা খনিতে শিশুরা
আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারে শিশুশ্রম একটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটির মিকা খনিজ খনিতে পুরো পরিবার—বাচ্চা থেকে বড়রা পর্যন্ত—জড়িয়ে পড়ে। ইউনিসেফের দেশীয় প্রধান লিসা সিমারমান জানান, “মাদাগাস্কারের ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৪৭ শতাংশ শিশুশ্রমের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছে। এর মধ্যে ৩২ শতাংশ জড়িত ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খরা ও ঘূর্ণিঝড় কৃষিনির্ভর এই দেশটিকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে অভাবের তাড়নায় শিশুরা মিকা উত্তোলনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য হচ্ছে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা
ঘানার গবেষক লিন্ডা ওসেই জানান, “অনেক বাবা-মা ইচ্ছা করেই তাদের সন্তানদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয় না। বরং পরিবারের উপার্জনে সহায়তা করা এখানে সংস্কৃতির অংশ।” ছোট খনিতে সন্তানদের নিয়ে কাজ করাকে অনেক পরিবার সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখে।

আইএলও-র মতে, শিশুশ্রম এমন কাজ যা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শৈশব এবং সম্ভাবনা বিনষ্ট করে। তবে অনেক দেশে ‘শিশুশ্রম’ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বোঝাপড়া এখনও অস্পষ্ট।

সঠিক পথেই এগিয়ে গেলে সম্ভব
মাকসুদের মতে, শিশুশ্রম রোধে আইনি কাঠামো থাকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার চেয়েও জরুরি আইন প্রয়োগের সক্ষমতা ও সদিচ্ছা। পাশাপাশি, শিক্ষার প্রসার, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও শিশুশ্রম হ্রাসে কার্যকর পন্থা হতে পারে।

তিনি বলেন, “আমরা যদি পরিবারগুলোকে বিকল্প পথ দেখাতে পারি, তাহলে তারা হয়তো সন্তানদের আর কাজে পাঠাবে না।”

You may also like

Leave a Comment

বার্তাপ্রেস একটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম। সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বার্তাপ্রেস পড়ুন, বার্তাপ্রেসে লিখুন। বার্তাপ্রেসের সঙ্গেই থাকুন।

ঠিকানা

© ২০২৫ | বার্তাপ্রেস কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | উন্নয়নে ডেভেলপার বোরহান