Home Seacond Lead যশোর-৬ আসন: বাবা আওয়ামী লীগ নেতা, ছেলে বিএনপির প্রার্থী

যশোর-৬ আসন: বাবা আওয়ামী লীগ নেতা, ছেলে বিএনপির প্রার্থী

by raazu
০ comments

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর: যশোরের কেশবপুরে উপনির্বাচন ঘিরে তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গনে। কারণ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখানকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে — আর এই নামটি শুধু রাজনীতির নয়, পারিবারিক এক টানাপোড়েনেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে এখন।

শ্রাবণের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল তার পারিবারিক আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে। তিনি বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। কিন্তু তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। পরিবারের অন্য তিন ভাইও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আছেন।

দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে শ্রাবণ এবং তার বাবার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। পরিবার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই শ্রাবণকে পারিবারিকভাবে ‘বর্জন’ করা হয়। বাড়িতে তার যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নেননি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, “রাজনৈতিক মতের পার্থক্য থেকেই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। শ্রাবণ নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন, আবার তার বাবাও নীতিতে অটল।”

কাজী রফিকুল ইসলাম একাধিক সময় স্থানীয়দের কাছে বলেছেন, “ছেলে আমার কেউ না, ও নিজের পথ বেছে নিয়েছে।”
এই মন্তব্যই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে কেউ বলছেন, এটি রাজনীতির জন্য পারিবারিক ত্যাগের এক দৃষ্টান্ত, কেউ আবার বলছেন, রাজনীতি কতটা বিভাজন তৈরি করতে পারে, সেটির জীবন্ত উদাহরণ শ্রাবণ পরিবার।

যশোর-৬ (কেশবপুর) উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন ঘোষণার পর শ্রাবণের নাম ফের আলোচনায়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর হয়তো তিনি আবার আলোচনায় ফিরছেন রাজনৈতিক অঙ্গন পেরিয়ে পারিবারিক বাস্তবতার মঞ্চেও।

কেশবপুরের এই গল্প এখন কেবল একটি নির্বাচনের বিষয় নয়—এটি রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে পারিবারিক সম্পর্ক ভাঙনের এক প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা পেরিয়ে।

—জা.অর্থনীতি/আরএস

You may also like

Leave a Comment

বার্তাপ্রেস একটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম। সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বার্তাপ্রেস পড়ুন, বার্তাপ্রেসে লিখুন। বার্তাপ্রেসের সঙ্গেই থাকুন।

ঠিকানা

© ২০২৫ | বার্তাপ্রেস কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | উন্নয়নে ডেভেলপার বোরহান