স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাসের দাবি জানিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট) নেটওয়ার্কের উদ্যোগে দিনব্যাপী সিগনেচার ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে তারা এই দাবি জানায়। স্বাক্ষর দিয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
একই দিন সারা দেশের তাবিনাজ নেটওয়ার্কের ৫০টি সংগঠনও আইন দ্রুত পাসের দাবিতে পৃথক একটি স্মারকলিপি দেয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরের অনুলিপি এবং তাবিনাজ নেটওয়ার্কের স্মারকলিপি অর্থ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো:
১. পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্মোকিং জোন বাতিল
২. সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের প্রদর্শন ও বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
৩. ই-সিগারেটের ক্ষতি থেকে তরুণদের সুরক্ষা
৪. বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রি বন্ধ
৫. তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ
৬. মোড়কে সচিত্র সতর্কবার্তা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা
বিটঘর রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং তাবিনাজ নেটওয়ার্কের সম্মিলিত দাবি স্পষ্টভাবে দেখায়—তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বাস্তবায়নে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, জোরালো সমর্থন দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তামাকের ঝুঁকি উপলব্ধি করে একটি স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
উল্লেখ্য, টোব্যাকো অ্যাটলাস (২০২২) অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত কারণে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়। কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন ও পাবলিক প্লেসে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ। দেশে ৩৪.৫ শতাংশ তরুণ তামাক ব্যবহার করে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত সংশোধনী পাস হলে তামাকজনিত মৃত্যু কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
