Home Seacond Lead কয়লা ও এলএনজিতে জাপানি বিনিয়োগ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

কয়লা ও এলএনজিতে জাপানি বিনিয়োগ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

by razu ahamed
০ comments

বাংলাদেশে কয়লা ও এলএনজির মতো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে জাপানের বেসরকারি বিনিয়োগ বন্ধের দাবিতে ঢাকার শ্যামলী পার্ক মাঠে আজ সকাল ১১টায় এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-সহ মোট ২২টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান—যেমন Mizuho, MUFG, SMBC ও JERA—বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে। চলতি জুন মাসেই এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়নের আহ্বান জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন।

সমাবেশে আয়োজক সংগঠনের পক্ষে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পরিবেশবিদ শরীফ জামিল। তিনি বলেন, “জাপানি প্রতিষ্ঠানের কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশ ও স্থানীয় জনগণের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। আমরা চাই, তারা এই ক্ষতিকর বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।”

অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, “আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা দরকার, কিন্তু সেটা যেন পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিরোধী না হয়। কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প আমদানি নির্ভর ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।”

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের এসএম বদরুল আলম বলেন, “জাপান অতীতে অনেক ভালো প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে, কিন্তু বর্তমানে তাদের বিনিয়োগ জীবাশ্ম জ্বালানিকে কেন্দ্র করে, যা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।”

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ইকবাল ফারুক বলেন, “গ্যাসকে ট্রানজিশনাল ফুয়েল বলা হলেও এটি একটি ভ্রান্ত সমাধান। জাপানের বিনিয়োগ বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।”

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও সুন্দরবন বিপন্ন। জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।”

শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “বিদেশি প্রকল্পের ওপর অতিনির্ভরতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। দেশের সামাজিক ও পরিবেশগত বাস্তবতা অনুযায়ী নিজস্ব জ্বালানি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।”

জিএলটিএস-এর রাওমান স্মিতা বলেন, “আমাদের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে কিছু লোক বিদেশি মুনাফাবাজদের স্বার্থ রক্ষা করছে। এই প্রকল্পগুলো বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।”

সচেতন ফাউন্ডেশনের হাবিবুর রহমান বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির প্রকল্পে বিনিয়োগের পেছনে কোনও গ্রহণযোগ্য গবেষণা নেই। ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তায় পড়ছে।”

গর্জন-এর সাধারণ সম্পাদক ফারজানা উর্মি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার জেলে ও লবণ চাষিরা। তাঁদের জন্য আমাদের এখনই করণীয় ঠিক করতে হবে।”

সমাবেশে মিশন গ্রিন ভলান্টিয়ার্স পরিবেশন করে একটি ফ্ল্যাশ মব টেলিং স্টোরি, যেখানে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের ক্ষতিকর দিক এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান শেষে মিশন গ্রিন বাংলাদেশ একটি পাপেট শো উপস্থাপন করে, যা সমাবেশে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ ছাড়াও অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল: বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্লাইমেট কোয়ালিশন,বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, সেন্টার ফর এ্যাটমোস্ফেরিক পল্যুশন স্ট্যাডিস (ক্যাপস), সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), ইকুইটিবিডি, এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইআরডিএ), গ্লোবাল ল’ থিংকারস সোসাইটি (জিএলটিএস), ব্রাইটার্স, মিশন গ্রীন বাংলাদেশ, অর্গানাইজেশন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স এন্ড এনভায়রনমেন্ট কনজার্ভেনশন (ওসিআরইসি), খাসিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ), সচেতন ফাউন্ডেশন, সুন্দরবন ও উপকুল সুরক্ষা আন্দোলন,  ইয়াং ক্লাইমেট একশন নেটওয়ার্ক (ইউক্যান), থ্রিফিফটিডটঅরগ (350.org), রিভার বাংলা, গর্জন, ওএবি ফাউন্ডেশন, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, যুব পরিবেশ ও উন্নয়ন সংস্থা ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ।

You may also like

Leave a Comment

বার্তাপ্রেস একটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম। সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বার্তাপ্রেস পড়ুন, বার্তাপ্রেসে লিখুন। বার্তাপ্রেসের সঙ্গেই থাকুন।

ঠিকানা

© ২০২৫ | বার্তাপ্রেস কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | উন্নয়নে ডেভেলপার বোরহান