ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি? ব্যাস। তোমাকেও ভালোবাসতে হবে। ভালোবাসি না ভালোবাসি না ভালোবাসি না। আর কখনো ভালোবাসবো না। কি বললা।
তুমি কেন আমাকে ভালোবাসবে না। আমি দেখতে খারাপ কোন দিক দিয়ে আমার কম আছে।
কারণ তোমাকে আমার ভালো লাগে না।
আমি যেমন মেয়ে আমার লাইফ পাটনার করে চাই তুমি তেমন না। একদম আলাদা।
তুমি কেমন মেয়ে চাও। কেমন করলে তুমিও আমাকে ভালোবাসবে।
আমি তোমাকে কখনোই ভালোবাসবো না।
কিন্তু কেন???
আমার ইচ্ছে তাই।
না তোমার ইচ্ছে না। তোমাকে আমাকে ভালোবাসতেই হবে।
না আমি তোমাকে ভালোবাসবো না।
ওকে আমিও দেখে নিবো। কীভাবে ভালোবাসা আদায় করতে হয় আমার খুব ভালো করে জানা আছে।
ওকে যা ইচ্ছে করতে পারো কিন্তু ফলাফল শূন্যই হবে।
তৃণা রাগে আগুন হয়ে চলে গেল। সাজিদকে অসম্ভব ভালোবাসে কিন্তু সাজিদ কোনো পাত্তাই দিতে চায় না।
কারণ তৃণা একদম অন্যরকম ছেলেদের মতো করে সে চলে। পড়ায় জিন্স, গায়ে শার্ট, মাথা ক্যাপ। তাকে দূর থেকে দেখলে একটা
ছেলেই মনে হবে।
আর এসব সাজিদ একদমই পছন্দ করে না। একটু চঞ্চল মেয়েদের এটাই সমস্যা। একটু অন্যভাবে চলে কিন্তু এদের
প্রেমেই ছেলেরা বেশি পড়ে। সাজিদও পড়েছে কিন্তু সে আগে তৃণাকে নিজের মনের মতো করবে তারপর বলবে নিজের ভালোবাসার কথা। ভার্সিটির সামনে সাজিদ বসে আছে। তখনি একটা মেয়ের আগমন। দূরে তাই পুরাটা বুঝা যাচ্ছে না।
দোস আমার কিন্তু মেয়েটার সাথে হয়ে গেছে। (সিফাত)
কি হয়েছে গেছে। (সাজিদ)
প্রেম”
ওহ, আমি তো ভাবছি বিয়ের আগেই বাবা হতে যাচ্ছিস।
উল্টা ভাবস ক্যান। কিরে মেয়েটা তো এই দিকেই আসছে
আসলে তো। আরে এটা তৃণা না।
হুম তৃণাই তো।
কেমন লাগছে। হুম, ঐ তুই হা করে আসিস কেন। যা এখান থেকে।(তৃণা)
যাচ্ছি যাচ্ছি। (সিফাত)
হা হা হা হা হা হুমম হা হা হা হাহ হাহ ।
হাসো কেন? (অবাক হয়ে)
তোমাকে দেখে।
আমাকে দেখে হাসার কি আছে।
আজকে কোনো অনুষ্ঠান নেই তুমি শাড়ি পড়ে এসেছো কেন।
আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই।
হা হা সুন্দর লাগছে হু হু হু, খুব সুন্দর লাগছে।
সুন্দর লাগছে বলতে কি হাসতে হয় নাকি।
তোমার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আমার হাসি আসছে।
সত্যি কি আমাকে খারাপ লাগছে।
আরে না না খুব সুন্দর লাগছে। আমি তো প্রেমে পড়ে গেছি। হি হি হি।
আমাকে নিয়ে মজা করছো।
না তো মজা কেন করব।
তাহলে এমন হাসছো কেন।
হাসি আসতেছে আমি কি করব কাঁদবো না কি ব্যা ব্যা করে। চুপ করে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে তৃণা। চোখের কোনো হালকা পানিও জমে গেছে। মনে হচ্ছে বৃষ্টি নামবে। অতঃপর বৃষ্টি নেমেই আসলো।)
আরে তুমি কাঁদছো কেন??
শব্দহীন কান্না চলছে তৃণার চোখের কাজলে কালো রেখা টেনে দিল তৃণার গালে)
তুমি কাঁদো কেন???
কান্না আসতে আসতে তীব্র হচ্ছে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল)
তুমি কি বাচ্চা নাকি কাঁদছো কেন কান্না বন্ধ কর। সবাই দেখছে কিন্তু।
সাজিদের কোনো কথা শুনছে না কেঁদেই চলেছে। কীভাবে কান্না থামাবে কোনো উপায়ও খুঁজে পাচ্ছে না। শেষ মেশ তৃণাকে সোজা বুকে নিয়ে নিল। এবার তো কান্না বন্ধ করো ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। ( তাও কাঁদছে) মেঘা কান্না বন্ধ করো আমার শার্ট ভিজে গেছে তো। ভিজুক।
আমার ঠান্ডা লেগে যাবে। এমন করে হাসছিলে কেন। কত কষ্ট করে তোমার জন্য সেজেগুজে আসছি আর তুমি হাসো। তা তো তোমাকে রাগাতে। আমাকে রাগাতে নাকি কাদাতে। না রাগলে কি কাঁদতে তুমি আমাকে কাদাতে ভালো লাগে তাই না। কি বলে পাগলি তোমার কান্না থামাতে তো বুকে নিলাম তোমাকে।
ঢং করো না। আমি জানি তুমি আমাকে কাদাতে ভালো লাগে। সত্যি তোমাকে কাদাতে নয় রাগাতে ভালো লাগে।
হুম তাহলে এতোদিন ভালবাসি বলোনি কেন???
ভালবাসি বললে কি এই সাজটা দেখতে পেতাম। তার মানে তুমিও আমাকে ভালবাসতে। আবার জিগায়। আই লাভ ইউ বলো। আচ্ছা বললাম ভালোবাসি।
পাপা পাপা আমাকে আজকে বেড়াতে নিয়ে যাবে। হুমম আম্মু নিয়ে যাবো। সত্যি পাপা। হুম সত্যি। তিন সত্যি বলো। সত্যি সত্যি সত্যি তিন সত্যি আজকে আমার অবনী মামণিকে বেড়াতে নিয়ে যাবো। আই লাভ ইউ পাপা, উমমমমমমমম্মা। আই লাভ ইউ টু মামণি, উমমমমমমমম্মা।
শরীর পুরা শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরে পাপার গালে চুমু দিলো অবনী। সাজিদও দিলো অবনীর কপালে। ছোট্ট অবনী। মেঘার শেষ স্মৃতি।
অবনীকে নিয়ে সাজিদ আজও বেচে আছে। অবনীকে জন্ম দিতে গিয়েই তৃণার জীবনাবসান ঘটে। আট বছর হয়ে গেল তৃণা পৃথিবী ছেড়ে সাজিদকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছে আর দিয়ে গেছে আজকের ছোট্ট ছয় বছরের অবনীকে।
তৃণার কথা ভাবতে ভাবতেই সাজিদ অতীতে হারিয়ে ছিল। কিন্তু সাজিদ একা নয়, ছোট্ট অবনী আছে সাজিদের। তার স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে সাজিদ আরেকটা বিয়ে করেনি। কারণ সৎ মা কেমন হয় কে জানে সেই ভয়ে সাজিদ নতুন কাউকে তৃণার স্থানটি দেয়নি।
আর তৃণাও রেখে গেল ভালোবাসার অসমাপ্ত গল্প।
লেখক, সাংবাদিক
