নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তরুণ প্রজন্মকে তামাকের আসক্তি থেকে রক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার ৫০টি নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠন।
এ দাবিতে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্মারকলিপির অনুলিপি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠিয়েছে তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) ও উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠান (উবিনীগ)।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রচলিত বহুস্তরবিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো তামাকপণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে তামাকজাত পণ্য সহজলভ্য থাকছে এবং বিশেষ করে তরুণ ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়ছে।
সংগঠনগুলোর মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করেন। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকপণ্যের ওপর আরও কঠোর কর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
স্মারকলিপিতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ স্তরের সিগারেটের মূল্য ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার মূল্য ৬০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
নারী সংগঠনগুলোর দাবি, সব ধরনের তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর বৃদ্ধি এবং সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালু করা হলে তামাকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত কর ও মূল্য কাঠামো বাস্তবায়িত হলে শুধু সিগারেট খাত থেকেই প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবেন এবং প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে।
নারী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আগামী জাতীয় বাজেটে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তামাকপণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি এবং মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
