সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তাগিদের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে নিজের সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন।
চারটি ফ্ল্যাটের মালিকানার বিবরণ
ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, তার ও তার স্ত্রীর মালিকানায় বর্তমানে চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
ঢাকার দনিয়া এলাকায় তার বাবার তৈরি একটি পাঁচতলা অ্যাপার্টমেন্টের ১,১৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন।
ময়মনসিংহে তার স্ত্রী উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন। একই ভবনে তিনি আরও একটি ফ্ল্যাট সস্তায় কিনেছেন, যা তাদের মাসিক আয়ের উৎস।
২০১৪ সালে ঢাকার শাহীনবাগে ১,১০০ বর্গফুটের তিন বেডরুমের একটি ফ্ল্যাট কেনেন, তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে থাকা কঠিন হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
অন্য সম্পত্তির বিবরণ
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা সঞ্চিত রয়েছে, যা মূলত তার পেনশন ও গ্র্যাচুইটি থেকে এসেছে। তার একটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে এবং গ্রামের বাড়িতে ৪০ শতক কৃষিজমি রয়েছে।
ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শফিকুল আলম পোস্টে লিখেছেন, গ্রামে ফিরে যাওয়ার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থাকলেও এখন তিনি মনে করেন, সেটি আর সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, “মৃত্যুর পর হয়তো সন্তানরা আমাকে আমার বাবা-মায়ের পাশে কবর দেবে।”
তিনি নিজের আয় ও সম্পদের বিষয়ে অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “ক্ষমতায় থাকলে অনেকে আপনার আয়ের বিষয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালায়।”
পূর্ববর্তী ক্যারিয়ার ও বর্তমান দায়িত্ব
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির ব্যুরো প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর তিনি গত আগস্টে সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমান দায়িত্ব শেষে ভবিষ্যতে তার পরবর্তী অবস্থান কোথায় হবে তা নিয়েও তিনি অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন।
জনগণের উদ্দেশে বার্তা
শফিকুল আলম বলেন, “ক্ষমতায় থাকার সময় যারা অপপ্রচার চালায়, তাদের মোকাবিলা করতেই আপনাকে সতর্ক থাকতে হয়। তবে স্বচ্ছ জীবনযাপন করলে এসব থেকে মুক্ত থাকা যায়।”
তার পোস্টে দায়িত্বশীলতার এই উদাহরণ প্রশংসিত হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
