সাধারণ মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতার মধ্যে সম্প্রতি শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় জনজীবনে আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ৪.৮০ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার ৬৩ শতাংশই পরোক্ষ কর, যেমন ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক থেকে আদায় হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে বাড়তি ১২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যে সরকার রিগ্রেসিভ কর নীতির পথে হেঁটেছে।
সিপিডি’র ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রত্যক্ষ কর না বাড়িয়ে পরোক্ষ করের ওপর চাপ বাড়ানো সাধারণ মানুষের ব্যয়ের বোঝা আরও বাড়িয়ে দেবে। ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানিতে খরচ বেড়েছে। তার ওপর শুল্ক ও ভ্যাটের হার বৃদ্ধি করের বোঝা দ্বিগুণ করে দিচ্ছে।”
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজও শুল্ক বৃদ্ধির এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, “উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ এমনিতেই চাপের মধ্যে আছেন। এর মধ্যে কর বাড়ানো মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।”
এদিকে সরকারের দাবি, শুল্ক ও ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না। তবে বাস্তবে এর প্রভাব জনজীবনে কতটা পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, মোবাইলফোনে কথা বলা, ইন্টারনেট সেবা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, কোমল পানীয়, ওষুধ, ফলের রস, এলপি গ্যাসসহ শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর এই ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
